রাজধানীতে গাড়ি চালাতেন আফসার আহমেদ। কিন্তু এক সময় এই পেশা ছেড়ে দেন। পেশা বদলে হয়ে যান ইউটিউবার। তবে তার কার্যক্রম ছিল ভিন্ন। ভালো বা নতুন কন্টেন তৈরি না করে পাততেন ফাঁদ। এর জন্য বেঁছে নিতেন প্রবাসী মেয়েদের। তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করতেন আফসার। এরপর সেই সম্পর্কের জেরে তাদের সঙ্গে ভিডিও কলে আপত্তিকর অবস্থায়র স্ক্রিনশট বা ভিডিও ধারণ করতেন। এমনকি অনেকের নগ্ন ভিডিও ধারন করে রাখতেন আফসার। এরপর সেই ভিডিও প্রকাশ এবং প্রচার করতেন ইউটিউবে।
এই ভিডিও দিয়ে ওই নারীদের করা হতো ব্ল্যাকমেইল। এরপর হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। গত ১৩ ডিসেম্বর এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ করে র্যাবের কাছে। পরে র্যাব-৪ এর সদস্যরা আফসারকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব-৪ অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।
আফসার আহমেদকে বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানায়। এসময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল, একটি ক্যামেরা স্ট্যান্ড, ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয়।
ডিআইজি মোজাম্মেল গণমাধ্যমকে জানান, ইউটিউব চ্যানেলটিতে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ভিডিও সংগ্রহ করে তার অংশবিশেষ নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করতো। গুগল ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও ডাউনলোড করে তা এডিট করে আপত্তিকরভাবে আপলোড করতো।
এ ছাড়াও নারীদের অভিনয়ের সুযোগ, উপস্থাপনার কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতো আফনার। তাছাড়া সে নিজেকে বিভিন্নভাবে পরিচয় দিয়ে মেয়েদের আকৃষ্ট করতো বলেও জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।