গত এক বছরে ২৪২ কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। ফোরামটির ২০২১ সালের কন্যাশিশু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
রোববার (২৭ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি।
এ সময় বলা হয়, ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে দুই হাজার ৮৬৮ জন কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। গতবছর ২৪২ জন কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে প্রেমে প্রতারণার শিকার হয়ে ৬১ জন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ৫৬ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতবছর ১১৬ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১০৪ জন।
২০২১ সালে এক হাজার ১১৭ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭২৩ জন একক ও ১৫৫ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৫ জন কন্যাশিশুকে। ২০২০ সালে ৬২৬ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
২০২১ সালে ২৭২ জন কন্যাশিশু পারিবারিক সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নানা কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুর্ভাগ্য হলেও সত্য এসব অপকর্ম যারা করে, তারা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পার পেয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অনেকে থানা-পুলিশ পর্যন্ত যেতে চান না। পত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হয়েছে, প্রতিবেদনে শুধু সেসব তথ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, ব্র্যাকের জিজেডি অ্যান্ড পিভাউ পরিচালক নবনীতা চৌধুরী, গুডনেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাঈনুদ্দিন মাইনুল এবং কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স অ্যান্ড কম্প্লেইন্স- এডুকো বাংলাদেশের হেড অব এডুকেশন গোলাম কিবরিয়া উপস্থিত ছিলেন।