বিশ্ববরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতানের ২৯তম প্রয়াণ দিবস আজ (১০ অক্টোবর)। দিনটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ৯-১০ অক্টোবর, দুই দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনী, আর্টক্যাম্প, শিশুদের পত্রলেখা প্রদর্শনী, পালাগান, পুতুলনাট্য প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম দিনে গতকাল বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনে শিল্পী এস এম সুলতানের প্রতিকৃতিতে অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপরে শিল্পী এস এম সুলতানের শিল্পকর্ম এবং শিশুস্বর্গের শিশুদের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। পরে শিশুদের নিয়ে গ্যালারি পরিদর্শন করেন একাডেমির মহাপরিচালক। শিল্পী এস এম সুলতানের জীবদ্দশা ও তার চিত্রকর্মের বিভিন্ন দিক শিশুদের তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্ববরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতানের ৪০টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে। এছাড়া শিল্পীকে নিয়ে আঁকা দেশবরেণ্য বিভিন্ন শিল্পীদের চিত্রকর্মও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। ৯ থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।
প্রদর্শনী উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম। তিনি বলেন, আমরা সাধারণত যে ক্যানভাসে আঁকি, শিল্পী এসএম সুলতান তা আঁকতেন না। তিনি গ্রামীণ চট দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ক্যানভাস তৈরি করে ছবি আঁকতেন। নিজেই রঙ তৈরি করতেন, মাটি, গাছের ছাল-পাতা দিয়ে রঙ তৈরি করতেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তাকে হৃদয়ে ধরে রাখতে প্রতিবছর নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এ অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে আমরা তাকে আরও বেশি বেশি স্মরণ করি।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে একাডেমির মহাপরিচালক, লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আমরা সবসময়ই খুঁজে বেড়াই আমাদের গর্ব ও গৌরবের জায়গা, সেই জায়গাগুলো তৈরি করেছেন শিল্পী এস এম সুলতানের মতো মহান শিল্পীরা। সেই গৌরবের জায়গাগুলোই আমাদের লালন ও চর্চা করতে হবে। তিনি যেভাবে কৃষকদের দেখেছেন সেভাবে আর কেউ দেখে নি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতিকে, গ্রামীণ সমাজকে’। শিল্পীর জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানমালার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক।
সবশেষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন একাডেমির সচিব সালাহ উদ্দিন আহাম্মদ। আলোচনা সভার শুরু এবং শেষে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে একাডেমির শিশু সংগীত দল। পরে প্রদর্শিত হয় শিল্পী এস এম সুলতানের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘আদম সুরত’।