মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

আয়হীন স্ত্রীর ৪৩ কোটি টাকার সম্পদ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামানজার শ্যামা খান। পেশা ব্যবসা হলেও তা থেকে আসে না কোনো আয়। তবুও ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে তাঁর। হুম্মাম কাদেরের সম্পদের পরিমাণ ৮১ লাখ ৯০ হাজার টাকা হলেও তাঁর তুলনায় স্ত্রীর সম্পদ ৫২ গুণ। নগদ টাকাও ৭ গুণ।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মামের নগদ টাকা আছে ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার। শুধু হুম্মাম কাদের নন, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ৩২ এমপি প্রার্থীর প্রায় ৬০ শতাংশ স্ত্রীই এমন ধনাঢ্য। এ ছাড়া কুমিল্লায়ও ডজনের বেশি এমপি প্রার্থীর স্ত্রী কোটিপতি। প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া আয়কর নথি বিশ্লেষণে এমন তথ্য মিলেছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন চার কোটি থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৮ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ রয়েছে ৯ স্ত্রীর। সর্বোচ্চ তিন কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে ছয়জনের। পাঁচ প্রার্থীর স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই। বাকি প্রার্থীর স্ত্রীদের সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পদ রয়েছে। ৯০ শতাংশ এমপি প্রার্থী তাদের স্ত্রীর পেশা ব্যবসা কিংবা চাকরি দেখিয়েছেন। তবে অনেকেই আয়ের ঘরে কোনো তথ্য দেননি। কেউ রেখেছেন ‘শূন্য’, কেউ লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নহে’।

সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘আয়ের ঘর শূন্য থাকলে কীভাবে এমপি প্রার্থীর স্ত্রীরা এত টাকার মালিক হন, তা বোধগম্য নয়। বেশির ভাগ এমপি তাঁর স্ত্রীর পেশার ঘরে ব্যবসা লিখেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটাও অবাস্তব। হলফনামায় ঘোষিত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা দরকার। তা না হলে দুর্নীতি নির্মূল করা কঠিন হবে।’

৪ থেকে ১৮ কোটি টাকার সম্পদ থাকা স্ত্রীরা
এমন সম্পদ রয়েছে ৯ এমপি প্রার্থীর স্ত্রীর। ধনী স্ত্রীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছেন জামিলা নাজনীন মাওলা। তিনি চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে বিএনপিদলীয় এমপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। পেশা ব্যবসা হলেও বছরে সেখান থেকে তাঁর আয় হয় মাত্র ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। অথচ জামিলা নাজনীন ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১২ কোটি টাকা ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ছয় কোটি ১১ লাখ টাকা।

সম্পদের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে আছেন রিজিয়া আকবর খোন্দকার। তিনি চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনের বিএপিদলীয় প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকারের স্ত্রী। পেশা ব্যবসা দেখালেও তিনি স্ত্রীর আয়ের ঘরে দেননি কোনো তথ্য। লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নহে’। অথচ তাঁর নামে ৪০ লাখ টাকার অস্থাবর ও ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।

চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের স্ত্রী পারভীন মাহমুদ। তিনি স্ত্রীর পেশা ব্যবসা দেখালেও তা থেকে কোনো আয় নেই বলে উল্লেখ করেন। তবু তাঁর স্ত্রীর ১৫ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১২ কোটি ১২ লাখ টাকার, আর স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম। তাঁর স্ত্রী নাজনীন নিজাম পেশায় ব্যবসায়ী। কিন্তু স্ত্রীর আয়ের ঘরে তিনি লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নহে’। অথচ তাঁর স্ত্রীর আট কোটি ২৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী তাহেরা আলম। নির্ভরশীলদের আয়ের ঘরে ৩৭ লাখ টাকার হিসাব থাকলেও স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি ৪০ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর স্ত্রী সাদিয়া এরশাদ প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের সম্পদের মালিক। পেশা ব্যবসা দেখালেও স্ত্রীর আয়ের ঘরে শূন্য লিখেছেন স্বামী এরশাদ উল্লাহ।

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে এলডিপি মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুকের স্ত্রী সাবিনা শারমিন। শিক্ষকতা পেশায় থাকলেও তাঁর কোনো আয় নেই। অথচ পাঁচ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তাঁর।

চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক। জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী তিনি। তাঁর স্ত্রী আমেনা শাহীনও জামায়াতের অন্য সব প্রার্থীর স্ত্রীর তুলনায় অনেক বেশি ধনী। সাড়ে চার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। অথচ হলফনামায় স্ত্রীর আয়ের ঘরে লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নয়’।

চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীনের স্ত্রীর নাম আনোয়ারা বেগম। পেশায় তিনি গৃহিণী। তারপরও চার কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে তাঁর।

সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকার সম্পদ থাকা স্ত্রীরা

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদের স্ত্রী তানজিনা সুলতানা জুহির কোনো আয় না থাকলেও তিন কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের স্ত্রী সুলতানা বাদশার কোনো আয় না থাকলেও দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। একই মূল্যের সম্পদ রয়েছে শেলী আকতারের। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু নাছেরের স্ত্রী।

চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে জামায়াত প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিমের স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরী পেশায় চিকিৎসক। তাঁর সম্পদের পরিমাণ আড়াই কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী আবু সুফিয়ানের নুরতাজ বেগম ও শর্মিলী ইয়াসমিন নামে দুইজন স্ত্রী রয়েছেন। তাদের দুজনই কোটিপতি।

চট্টগ্রাম-১০ হালিশহর-পাহাড়তলী আসনের বিএনপিদলীয় এমপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমানেরও দুই স্ত্রী। সাজিয়া আবদুল্লাহ ও ফজিলাতুন্নেছা সূচির পেশা ব্যবসা। তারা দুজনই কোটিপতি। এর মধ্যে সাজিয়া আবদুল্লাহ দুই কোটি ২০ লাখ ও ফজিলাতুন্নেছার এক কোটি ১৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

৫ প্রার্থীর স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই
চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ও আলাউদ্দীন সিকদার। দুই প্রার্থীর গৃহিণী স্ত্রীর কোনো সম্পদ ও আয় নেই। ১৬টি আসনের মধ্যে কেবল সন্দ্বীপেই কোনো প্রার্থীর স্ত্রীরই সম্পদ নেই। একইভাবে জামায়াত প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী জোবায়দা আকতার, শাহজাহান মঞ্জুর স্ত্রী লুৎফর জাহান ও শামসুজ্জামান হেলালীর স্ত্রী ফাহমিনা কাদেরীর নামে কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নেই। অন্য প্রার্থীর স্ত্রীদের ২০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে অন্তত ৬০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

কুমিল্লায়ও ডজনের বেশি এমপি প্রার্থীর স্ত্রী কোটিপতি
কুমিল্লার বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত, এলডিপিসহ একাধিক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীর অধিকাংশই পেশায় ব্যবসায়ী। আবার সেই ব্যবসায়ী প্রার্থীর স্ত্রীদের অধিকাংশই ‘পারিবারিক কোটায়’ কাগজকলমে পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের অনেকের স্ত্রীও কোটিপতি। কেউ কেউ আবার টাকা-পয়সা ও সম্পত্তিতে স্বামীর চেয়ে এগিয়ে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩১ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে ১১ আসনে ১৬ কোটিপতি প্রার্থীর তথ্য মিলেছে। যাদের দুইজন বাদে সবার স্ত্রীই কোটিপতি। এ ছাড়া দুজন গৃহিণী ছাড়া সবাই পেশায় ব্যবসায়ী।

কুমিল্লা-১ দাউদকান্দি-মেঘনা আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাঁর সম্পদ ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনের সম্পদ ১২ কোটি ৩২ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৪ টাকার। এ দম্পতি পেশায় ব্যবসায়ী। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ড. মোশাররফ-পুত্র খন্দকার মারুফ হোসেন। আইন পেশায় নিয়োজিত মারুফের সম্পদ চার কোটি ২৮ লাখ ৭১ হাজার টাকার। তাঁর স্ত্রী পেশায় ব্যবসায়ী সানজিদা ইসলাম সাইফার সম্পদ এক কোটি ৬১ লাখ টাকার।

কুমিল্লা-২ হোমনা-তিতাস আসনে পেশায় ব্যবসায়ী এ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমির হোসেনের সম্পদ দুই কোটি ৩৯ লাখ ২৯ হাজার ২৩৮ টাকার। একই আসনের বিএনপির প্রার্থী পেশায় ব্যবসায়ী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সম্পদ চার কোটি সাত লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ দুই প্রার্থীর স্ত্রীর নামে সম্পদ নেই।

কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর সম্পদ এক কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ৯১৮ টাকা। তাঁর স্ত্রী পেশায় গৃহিণী মাহফুজা হোসাইনের সম্পদ এক কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকার।

কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সম্পদ এক কোটি ৩২ লাখ ১৪ হাজার টাকার। তাঁর স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সীর নামে সম্পদ আছে তিন কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

কুমিল্লা-৫ বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সম্পদ আট কোটি এক লাখ ৯৬ হাজার ৫১৭ টাকার। তাঁর স্ত্রী পেশায় গৃহিণী ইরফাত জাহানের সম্পদ ৫১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

কুমিল্লা-৬ সদর ও সদর দক্ষিণ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৬৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রী আজিজুন নেসার নামে সম্পদ দেখানো হয়েছে ৯৫ লাখ ৭২ হাজার ২৫২ টাকার। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে প্রার্থী হওয়া আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সম্পদের পরিমাণ ২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রী পেশায় ব্যবসায়ী তাহমিনা আক্তারের সম্পদ দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদেয়ান আহমেদের সম্পত্তি আট কোটি ৮১ লাখ সাত হাজার টাকার। তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রী মমতাজ আহমেদের সম্পদ দুই কোটি ২৪ লাখ ১১ হাজার টাকার।
কুমিল্লা-৮ বরুড়া আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের আছে ২০৪ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রী নাজনীন আহমেদের আছে ১২৮ কোটি ২১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ হেলালের আছে দুই কোটি ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫ টাকার সম্পদ। তবে স্ত্রীর নামে নেই কোনো অর্থ সম্পদ।

কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের আছে ৪৮ কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজার ২২৪ টাকার সম্পদ। তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রী রহমত আরা বেগমের আছে ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ২৩৫ টাকার সম্পদ।

কুমিল্লা-১০ নাঙ্গলকোট-লালমাই আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সম্পদ আছে এক কোটি ২৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৭ এবং ব্যবসায়ী স্ত্রী জেবুন নাহার ভূঁইয়ার আছে তিন কোটি ৫৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭ টাকার সম্পদ।

কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৮০ হাজার ১৯২ টাকা এবং তাঁর চিকিৎসক স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর চার কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুল হুদার সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি সাত লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রীর সম্পদ এক কোটি তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকার।

চৌদ্দগ্রাম আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা সমকালকে বলেন, হলফনামায় তিনি ও তাঁর স্ত্রীর যে সম্পদ দেখানো হয়েছে তাতে সব তথ্য সঠিক। যে কোনো সংস্থা ইচ্ছে করলে তদন্ত করতে পারবে, এসব তথ্য সরকারের ওয়েবসাইটেও আছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, অতীতেও আমরা দেখেছি প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া সম্পদের তথ্য ছিল অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। এবারও ব্যতিক্রম নয়। ভুল তথ্য দেওয়া একটি সংস্কৃতি হয়ে গেছে। এবার প্রার্থীদের হলফনামা আমরা সংগ্রহ করেছি। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের মুখোমুখি বসব।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD