প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের মন্ত্রী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ওই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন উপায়ে বা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। ওই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না বা হবে কি না?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থ প্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)।
পাচারকৃত এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি-এমএলএটি) সম্পাদন এবং মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের (ইউএসএ, ইউকে, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, ইউএই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চায়না) মধ্যে ৩টি দেশ (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। অপর ৭টি দেশের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।