ইরান চুক্তিতে না পৌঁছানোয় যুদ্ধবিরতির পরে দেশটিতে সম্ভাব্য হামলার জন্য হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। অনুমোদন পেলে এটিই হবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকরি মোতায়েন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় ব্যবহারের জন্য সেনাবাহিনীর দীর্ঘ-বিলম্বিত ‘ডার্ক ঈগল’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর অনুরোধ করেছে। তাদের লক্ষ্য, দেশটির গভীরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম এই দূর-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
অনুমোদন পেলে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে। তবে এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে এগোচ্ছে। আর রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে এমন অস্ত্র মোতায়েন করলেও, যুক্তরাষ্ট্রেরটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত বা কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টকম তাদের অনুরোধের কারণ হিসেবে বলেছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকগুলো (মিসাইল লঞ্চার) প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের পাল্লার বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল হলো ৩০০ মাইলেরও (প্রায় ৪৮২ কিলোমিটার) বেশি পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
তবে, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানে হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। ইরানের ভাষ্যমতে, ৪০ দিনের এই যুদ্ধে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন।
গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা করে। তবে পরে উভয় পক্ষই জানায়, বিভিন্ন মতবিরোধের কারণে তারা সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ২১ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মতে, তেহরান ওয়াশিংটনের একতরফা যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের স্বার্থে যা প্রয়োজন মনে করবে, সেভাবেই পদক্ষেপ নেবে।