শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

মিশরে ড্রোন হামলায় সুয়েজপথে তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন শঙ্কা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

মিশরের জলসীমায় ড্রোন হামলায় দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় সুয়েজ খাল ও এর সঙ্গে সংযুক্ত সুমেদ (SUMED) পাইপলাইন দিয়ে তেল রপ্তানির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই রুটটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভূমধ্যসাগর সংলগ্ন নীল নদের বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এ বন্দরে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল লক্ষ্য করে কোনো প্রকাশ্য হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

যদিও ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল মান্দেব হয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে, তবুও এখন পর্যন্ত সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল থেকে উত্তরমুখী তেল রপ্তানির নিরাপদ পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির (MST Marquee) প্রধান গবেষক সাউল কাভোনিক বলেন, লোহিত সাগর হয়ে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পথও যদি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে পারে, যা বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব তাদের অধিকাংশ তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনালের মাধ্যমে শুরু করে। তবে গত সপ্তাহ থেকে হুথিদের হুমকি ও হামলার কারণে ওই রুটেও অনেক ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি তেলবাহী জাহাজের একটি বড় অংশ লোহিত সাগর হয়ে উত্তর দিকে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইনের দিকে যাচ্ছে। এর ফলে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য জাহাজগুলোকে আগের তুলনায় দীর্ঘ পথ ঘুরে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

কেপলারের তথ্য বলছে, সুমেদ পাইপলাইন দিয়ে জুলাই মাসে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে। এপ্রিল মাসে এই পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। ২০ জুলাই হুতিরা বাব আল-মান্দেব হয়ে সৌদি তেল পরিবহনে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর থেকেই এই প্রবণতা বাড়তে শুরু করে।

এদিকে জাহাজ পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের (MarineTraffic) তথ্য অনুযায়ী, সুয়েজ খালের ভূমধ্যসাগরীয় প্রবেশমুখ পোর্ট সাঈদে বর্তমানে প্রায় ৩০টি জাহাজ অবস্থান করছে। সপ্তাহের শুরুতে সেখানে জাহাজের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০টি।

জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার (Vortexa) বিশ্লেষক জর্জ মরিস বলেন, লোহিত সাগর থেকে তেল বোঝাই করে উত্তরমুখী ট্যাংকারের সংখ্যা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। এর মূল কারণ হুতিদের নিরাপত্তা হুমকি।

তবে বাব আল-মান্দেব হয়ে দক্ষিণমুখী তেল পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যদিও মাসের শুরুতে যে পরিমাণ তেল ওই পথে যেত, বর্তমানে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ইয়ানবু থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের ৪৩ শতাংশ দক্ষিণমুখী গেছে, যেখানে জুনে এ হার ছিল ৮১ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ট্যাংকার বাব আল-মান্দেব এড়িয়ে চললেও চীনের কিছু জাহাজ হুতিদের অনুমতি নিয়ে ওই পথ ব্যবহার করছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্রমেই বেশি সংখ্যক ট্যাংকার তাদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখেই চলাচল করছে।

তবে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির (S&P Global Energy) আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের প্রধান অ্যালি ব্লেকওয়ের মতে, দামিয়েত্তার হামলা এই মুহূর্তে সুয়েজ খালের জন্য সরাসরি হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এখনো বাজার সুয়েজ খাল বন্ধ হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি বিবেচনায় নিচ্ছে না।’

হামলার পরও বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD