চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও সাতজন।
নিহত নতুন শ্রমিকের নাম মতিউর রহমান (১৯)। শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, মতিউর রহমানকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে আরও সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত নয় শ্রমিক হলেন—সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬), রানা মিয়া (২৩), মতিউর রহমান (১৯) ও খোকন মিয়া (২৩)। তাঁদের মধ্যে খোকন ও রানা গাইবান্ধার এবং আবদুল আলীম পাবনার বাসিন্দা। অন্যরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। নিহত মনসুর ও নাসির আপন ভাই।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শোনা যায়। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ কয়েকজনকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন। এরপর স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে কয়েকজন শ্রমিকের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে অবশ্যই গ্যাসমুক্ত করতে হয়। বিভিন্ন ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল খুবই দুর্বল।