শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কে ফাঁকা গুলশানের সেইসব স্পা সেন্টার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন বিতর্কিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ। তাদের গ্রেপ্তারের পর আতঙ্কে ফাঁকা রাজধানীর অভিজাত গুলশান, বনানী এলাকার স্পা সেন্টার। বন্ধ হয়েছে এসব এলাকার স্পা সেন্টার, সিসা লাউঞ্জ ও বিউটি পার্লার। গা-ঢাকা দিয়েছে পার্টি হাউস ও অসামাজিক কাজে জড়িতরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ নজরদারি রয়েছে অভিজাত এলাকায়। এসব এলাকার তারকা হোটেলগুলোতেও কমেছে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সঙ্গী হওয়া সুন্দরী তরুণীদের আনাগোনা। স্পা সেন্টার ও বিউটি পার্লারের আড়ালে অবৈধ কাজে জড়িত ১৭টি প্রতিষ্ঠান ও ১৩টি সিসা লাউঞ্জের তালিকা এখন গোয়েন্দাদের হাতে।

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার মডেল পিয়াসা ও মোহাম্মদপুর থেকে মৌ। এরপর বনানী থেকে অভিনেত্রী পরীমণি। গ্রেপ্তার হন তাদের কয়েক ঘনিষ্ঠ সহযোগীও। এরপর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তথাকথিত মডেল ও রুপালি জগতের অনেকের মধ্যেই। যারা এক সময়ে পিয়াসা-মৌ ও পরীমণি চক্রে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। আতঙ্কে বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের পরিচালিত অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

গুলশান এলাকার স্পা সেন্টার ও বিউটি পার্লারের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। যার ১০টিতে অনৈতিক কাজ হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কাজে থাই নাগরিকসহ বিদেশিরাও জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই তালা ঝুলছে।

কেবল স্পা সেন্টার ও বিউটি পার্লারই নয়, ভয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছে অনেক পার্টি হাউস ও সিসা লাউঞ্জের নিয়ন্ত্রকরা। বনানীর ১১ নম্বর সড়ক ঘিরেই ১৩টি সিসা লাউঞ্জ গড়ে ওঠেছে। এদের কয়েকটি অবৈধভাবে মাদক কারবারেও জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঁচটির মূল ফটকে তালা ঝুলছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা জানান, মডেলরা গ্রেপ্তারের পর থেকেই লাউঞ্জগুলো বন্ধ রয়েছে।

এদিকে পিয়াসাকে গ্রেপ্তারের পর অনৈতিক কাজের মাধ্যমে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ এ জড়িতদের অনেক ‘সেফ প্লেস’ এখন ফাঁকা। এসব ‘সেফ প্লেস’ এ ধনীর দুলালদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতো চক্রের তরুণীরা। অনেক নামি-দামি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের যাতায়েত ছিলো সেখানে । এই সুযোগে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে চক্রটি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিত মোটা অংকের অর্থ।

গুলশান-বনানী এলাকায় পূর্বের ন্যায় এখন সেখানে আর নামি-দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি এবং পুরনো আড্ডাও নেই। ইতোমধ্যে যাদের নাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও গণমাধ্যমে এসেছে তাদের অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। পিয়াসা চক্র গ্রেপ্তারের পর আলোচনার বাইরে থাকতেই অপকর্মের গডফাদাররা জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। অনেকে আবার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কেনা অবৈধ গাড়ি আটকের ভয়ে বাসা থেকে সেভাবে বের হচ্ছেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, স্পা সেন্টার পার্লার, বিউটি পার্লার, সিসা লাউঞ্জ বা পার্টি হাউস যেই নামই আসুক না কেন, কোনো অনৈতিক বা অপরাধমূলক কাজের খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD