প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৪ কেজি সোনার পেস্টসহ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) দুবাই-সিলেট-ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে সোনার পেস্টসহ দেলোয়ার ও রবি মিয়া নামে দুই যাত্রীকে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে কাস্টমস ও ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুই যাত্রীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো. মাসুদুর রহমান।
শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, দুবাই-সিলেট-ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং- বিজি-০২৪৮ এর মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান হতে পারে এমন তথ্যের প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সতর্কতামূলক অবস্থান গ্রহণ করেন। পরে দুবাই হতে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশের ওই এয়ারলাইন্সে অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে দেলোয়ার ও রবি মিয়া নামে দুই যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে তাদের লাগেজ স্ক্যানিংসহ তাদের আর্চওয়েতে চেকিং করানো হলে দেলোয়ারের লাগেজে এক হাজার ১০০ গ্রাম ও পায়ুপথে ৮৩৫ গ্রামসহ মোট ১ হাজার ৯৩৫ গ্রাম পেস্ট সদৃশ স্বর্ণ পাওয়া যায়।
আরেক যাত্রী রবি মিয়ার পায়ের নিম্নাংশে এ্যাংলেট দিয়ে আবৃত ২ হাজার ২২০ গ্রাম পেস্ট সদৃশ স্বর্ণ পাওয়া যায়। দুই যাত্রীর কাছ থেকে মোট চার হাজার ১৫৫ গ্রাম পেস্ট সদৃশ স্বর্ণ পাওয়া যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৯০ হাজার ৮৫ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিমানটি দুবাই থেকে সিলেটে অবতরণের পর অভ্যন্তরীণ যাত্রী হিসাবে বিমানে উঠেছিলেন তারা। অভ্যন্তরীণ যাত্রী হিসেবে স্বর্ণ অবৈধভাবে সরকার নির্ধারিত শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে কাস্টমস আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা এবং একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।