ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হামলা বাতিল ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে এবং তা অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওই রাতের জন্য নির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও চূড়ান্ত শর্তাবলি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও মিসরসহ একাধিক দেশ সম্পৃক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, আলোচিত সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান পরে ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি শিগগিরই, এমন দাবি কতবার করেছেন ট্রাম্প?Trump
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, কিছুই পরিবর্তন হয়নি।
তার ভাষ্য, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোনো আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের বাস্তব উদ্যোগ প্রয়োজন।
দারেইনি বলেন, এমন কিছু ঘটেনি। বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, উত্তেজনা কমাতে আমেরিকানরা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। চাপ প্রয়োগ করে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, তাই ট্রাম্প যেটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরছেন, সেটিকে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আমি দেখছি না।