স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে কর্মচারীদের পিটুনিতে বরিশাল মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রাজধানীর আদাবর থানায় মামলাটি করা হয়।
আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুজ্জামান জানান, পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করে। এ ঘটনায় গত রাতে প্রথমে ছয় জনকে আটক করে পুলিশ। পরে আরও এক জনকে আটক করা হয়।
এর আগে সোমবার মাইন্ড এইড হাসপাতালে কর্মচারীদের পিটুনিতে আনিসুলের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
হাসপাতাল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি রুমে ঢোকানো হয়। কয়েকজন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে তার উপরে উঠে চেপে ধরেন। এরপর নীল পোশাক পরা আরও দুজন ব্যক্তিকে তাঁর পা চেপে ধরে থাকতে দেখা যায়। এ সময় মাথার দিকে থাকা লাল পোশাক পরা দুজন কর্মচারী তাঁকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ মুখে মাস্ক পরে তখন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন।
চার মিনিট পর আনিসুলকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই তাঁর শরীর নিস্তেজ ছিল। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক কাছে এসে দেখেন। একজন কর্মচারী তখন তাঁর মুখে পানি ছিটান। তাতেও তিনি নড়াচড়া করছিলেন না। তখন কর্মচারীরা ওই রুমের মেঝে মুছে পরিষ্কার করেন। সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন মহিলা সেখানে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ১৩ মিনিটের মাথায় অ্যাপ্রোন পরা একজন মহিলা তাঁর বুকে জোরে জোরে পাম্প করতে থাকেন।
আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।