মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন

কিবলা পরিবর্তনের স্মৃতিবিজড়িত ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ (ভিডিও)

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

লাইট নিউজ ডেস্ক : ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ ইসলামের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী। পবিত্র মদিনা শরিফের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ ইসলামী যুগের তৃতীয় মসজিদ। আর সর্বপ্রথম মানব হজরত আদম (আ.) থেকে হজরত ঈসা (আ.) পর্যন্ত লক্ষাধিক নবী-রাসুলের একটি মাত্র কিবলা ছিল, আর তা হলো ‘বাইতুল মাকদিস’। কিন্তু রাহমাতুল্লিল আলামিন, বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ সা. ও তাঁর সৌভাগ্যবান উম্মতের একাংশের ভাগ্যে বাইতুল মাকদিস ও পৃথিবীর প্রথম ঘর পবিত্র কাবা, এই উভয় কিবলার দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের বিরল সৌভাগ্য অর্জিত হয়েছে।

‘মসজিদে কিবলাতাইন’ নামকরণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : এই মসজিদটি বনু সালামা অঞ্চলে হওয়ার সুবাদে এর প্রথম নাম ছিল মসজিদে বনু সালামা। মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর প্রায় ১৬ মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। এরপর বাইতুল মাকদিসের পরিবর্তে মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কাবা শরিফকে মুসলমানদের জন্য চিরস্থায়ী কিবলা হিসেবে নির্ধারণ করেন। যা আজও বিশ্বের প্রায় ১২৫ কোটি মুসলমানের কিবলা তথা অন্তরের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিগণিত।

সব জাতি, গোত্র এবং সব ধর্মের একটি বিশেষ নিদর্শন বা প্রতীক থাকে, যার অনুপস্থিতিতে সে জাতি ও গোত্রের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হতে পারে না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ নামাজের জন্য একটি স্বতন্ত্র কিবলা নির্ধারণ করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি হওয়ার সুবাদে মিল্লাতে ইব্রাহিমের প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য কাবার দিকে মুখ করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। আর মুসলমানদের কিবলা বাইতুল মাকদিস হওয়ার কারণে কপট হৃদয়ের ইহুদিরাও এই বলে অপপ্রচার করে বেড়াত যে আমাদের ও মুসলমানদের কিবলা যেহেতু এক এবং অভিন্ন, অতএব ধর্মের ক্ষেত্রেও মুসলমানদের উচিত আমাদেরই অনুসরণ করা। এসব কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হৃদয়ের সুপ্ত বাসনা ছিল, কাবা যদি মুসলমানদের কিবলা হতো! এ বাসনা তীব্রতর হলে তিনি ব্যাকুল নয়নে আকাশের দিকে বারবার তাকাতেন, ওহির মাধ্যমে এর অনুমোদনের প্রত্যাশায়।

হিজরি দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে মতান্তরে রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছুসংখ্যক সাহাবায়ে কেরামসহ বিশিষ্ট সাহাবি হজরত বিশর ইবনে বারা (রা.)-এর নিমন্ত্রণে যোগ দিতে মদিনার অদূরে বনু সালামায় পৌঁছে জোহরের নামাজ, মতান্তরে আসরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে তাশরিফ নিলেন। বলা বাহুল্য, নামাজে ইমাম ছিলেন রাসুল (সা.) আর মুক্তাদি ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম (রা.)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝামাঝি সময়ে আল্লাহর প্রিয় হাবীব (সা.)-এর আন্তরিক ইচ্ছার বাস্তবায়নে হজরত জিব্রাইল (আ.) মহান আল্লাহর শাশ্বত বাণী নিয়ে অবতীর্ণ হলেন। হে মুহাম্মদ! আপনি নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরান এবং (মুসলমানগণ) তোমরা যেখানেই থাকো, সে দিকেই নিজেদের মুখ ফেরাবে। আল্লাহর নির্দেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের দুই রাকাত কাবা শরিফের দিকে ফিরে আদায় করেছিলেন, বিধায় এ মসজিদ ইসলামের ইতিহাসে মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলাবিশিষ্ট মসজিদ নামে সুপরিচিত ও সমাদৃত।

মসজিদে কিবলাতাইনের নির্মাণ-ইতিহাস : দ্বিতীয় হিজরি মোতাবিক ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে মদিনা মুনাওয়ারার বনি সালামা অঞ্চলের খালিদ বিন ওয়ালিদ সড়কসংলগ্ন এ মসজিদ সর্বপ্রথম রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নির্মাণ করেন। অতঃপর কিংবদন্তি ন্যায়পরায়ণ শাসক, দ্বিতীয় ওমর নামে খ্যাত খলিফা হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.) ১০০ হিজরিতে ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ পুনর্নির্মাণ করেন। এর দীর্ঘকাল পর মসজিদে নববীর প্রখ্যাত খাদেম শুজায়ি শাহিন আল জামালি ৮৯৩ হিজরিতে ছাদসহ ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ পুনর্নির্মাণ করেন। এই নির্মাণের ৫৭ বছর পর তুরস্কের উসমানীয় খলিফা সুলাইমান আল কানুনি ৯৫০ হিজরিতে আগের তুলনায় বৃহৎ আয়তনে ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ পুনর্নির্মাণ করেন।

অনন্য বৈশিষ্ট্য : এ মসজিদ একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যা অন্য কোনো মসজিদে নেই। তা হলো, রাসুল (সা.)-এর যুগ থেকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত এই মসজিদে দুটি মেহরাব তথা ইমামের দাঁড়ানোর স্থান ছিল। যার একটি বায়তুল মাকদাসমুখী। অন্যটি ছিল কাবাঘরমুখী। পরে সংস্কারের সময় অবশ্যই বায়তুল মাকদাসমুখী মিম্বরটি গুঁড়িয়ে দিয়ে কাবাঘরমুখী মেহরাবটি অবশিষ্ট রাখা হয়।

মসজিদের আয়তন ও মুসল্লি ধারণক্ষমতা : ঐতিহ্যবাহী আরবীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ ঐতিহাসিক মসজিদের মুসল্লি ধারণক্ষমতা দুই হাজার। মসজিদটির আয়তন তিন হাজার ৯২০ স্কয়ারমিটার। গম্বুজসংখ্যা দুটি, ব্যাস আট মিটার ও সাত মিটার। উচ্চতা ১৭ মিটার। মিনারসংখ্যা দুটি। ইসলামের স্বর্ণালি ইতিহাসে ‘মসজিদে কিবলাতাইনের’ আবেদন চিরভাস্বর।

https://www.facebook.com/Lightnewsbd01/videos/208269497267107/

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD