ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০২৭ সাল থেকে ইসরায়েলকে আর এই অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রয়োজন হলে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি দেশটির কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর দিন ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। কয়েক মাস আগেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ করা হবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইসরায়েল এখন অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে দেশটির আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিবছর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র কিনতে পারবে। আর কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশটির সহায়তা প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন পাশে থাকবে।
নেতানিয়াহুর প্রস্তাবেই কি বন্ধ হচ্ছে মার্কিন সহায়তা?
ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই প্রথম মার্কিন সহায়তা বন্ধের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে চান তিনি।
তবে নেতানিয়াহুর আগের পরিকল্পনা ছিল ধীরে ধীরে মার্কিন সহায়তা কমানো। ট্রাম্পের ঘোষণায় সেই সময়সীমা অনেকটা এগিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
### যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক চুক্তিতে কী আছে?
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি একটি সামরিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলকে মোট ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে আসছে ইসরায়েল।
ট্রাম্পের ঘোষণায় এই বিদ্যমান চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা চুক্তির অর্থায়ন কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় আগেই বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা?
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল। দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মার্কিন সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে গাজা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে।
ট্রাম্পের মতে, ইসরায়েলকে প্রতিবছর ৪০০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়টি ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকেরা রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যবহার করছেন। তাই এই অর্থ সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক অর্থায়ন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং বিদ্যমান চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।
**সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আলজাজিরা।