বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সবাইকে অহেতুক ব্যয় পরিহার করতে হবে। মিতব্যয়ী হতে হবে। এমন একটা পরিস্থিতিতে আমাদের মতো দেশকে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে। নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে যাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে পারি, সেই ভূমিকা রাখতে হবে। যেটা জরুরি প্রয়োজন, আমরা সেটা করবো। কম প্রয়োজনীয় কাজ আপাতত বন্ধ রাখবো। তাহলেই বিশ্ব মন্দা আমাদের কাবু করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২৪তম জাতীয় সম্মেলন এবং ৪৩তম কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনীতে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন পণ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। সঞ্চয় করতে হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিটি জায়গায় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, পানিও কমিয়ে দিচ্ছে। শীতে তারা কী করবে, সেটা নিয়ে শঙ্কিত।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতি জরুরি বাদে বাকিগুলো দেরিতে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তাদেরকে ধন্যবাদ দেন। প্রকল্পের অর্থব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। রুপকল্প-২০৪১ এবং ২০২১ সালের বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রকৌশল ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর হাতে আইডিইবি স্বর্ণপদক তুলে দেন।