যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর দক্ষিণে তারা নতুন করে অভিযানে নেমেছে, যেগুলোকে তারা ‘হুমকি মোকাবিলা’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
বৈরুতভিত্তিক সংবাদদাতা হেইডি পেট জানান, শনিবারও দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামে গোলাবর্ষণ, মর্টার শেল ও মেশিনগান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েল দুটি বিমান হামলার কথাও নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, একটি হামলায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের একটি দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যারা ‘হলুদ রেখা’র দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। অন্য হামলায় ওই রেখার দক্ষিণে একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথের কাছে থাকা এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয় এবং প্রবেশপথটি ধ্বংস করা হয়।
ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এসব হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নয়। কারণ, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইসরায়েল পদক্ষেপ নিতে পারে। উনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট-এ প্রকাশিত চুক্তির পাঠেও এমন বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন পেট। একইসঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননের ৫৫টি গ্রামে ইসরায়েলি উপস্থিতিও অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহনেতা নাইম কাসেম এই চুক্তিকে লেবাননের জন্য ‘অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার অপেক্ষায় থেকে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা মেনে নেওয়া হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হেইডি পেট জানান, দক্ষিণ লেবাননের বাস্তবতা এখনও আগের দিনের মতোই রয়েছে। অনেক মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফিরতে সড়কে নেমেছেন। তবে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে আবার বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রেও ফিরে যাচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা