যমুনা, করতোয়া, বড়াল ও হুড়াসাগর নদীতে গত ৩ দিন ধরে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি, সোনাতনী, গালা ও জালালপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নিচু জমির কাঁচা ও আধাপাকা ধান সবচেয়ে বেশি ডুবেছে। ফলে এসব নদীর তীরবর্তী ২০০ বিঘা নিচু জমির বোরো ধান ডুবে গেছে। এতে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক পানির ভেতর থেকে কাঁচা ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছে। অনেকে আবার আধাপাকা ধান মাড়াই করে কিছুটা চাল বের করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া এ পানি বৃদ্ধির কারণে নদী তীরবর্তী চিল, বাদান ও কাউনির জমি ডুবে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে সনাতনী গ্রামের বাদশাহ মিয়া, ইব্রাহিম হোসেন, জিয়া উদ্দিন, নূর ইসলাম, ছোট চানতারা গ্রামের খোরশেদ আলম ও বানতিয়ার গ্রামের অয়জাল সরকার, হোসেন আলী ও আলম শেখ বলেন, হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে আমাদের এ এলাকার অন্তত ১০০ বিঘা জমির ধান ডুবে গেছে। ফলে অনেকেই কাঁচা ধান কেটে গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কৃষকের চরম ক্ষতি হয়ে গেছে। ফসলগুলো ভালো করে তুলতে পারলে তারা অর্ধেক বছরের খরচ ও খাওয়ার চাহিদা পূরণ করত। হঠাৎ নদীর পানিতে ডুবে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির ফলে শাহজাদপুরে প্রায় ২০০ বিঘা বোরো ধান ডুবে গেছে। এর মধ্যে ১১৫ বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ ও ৭৫ বিঘা জমির ধান আংশিক ডুবে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হবে। পরবর্তীতে সরকারি কোনো সহযোগিতা এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেওয়া হবে।