বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন

লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে কিটো ডায়েট: গবেষণা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬

একটি নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জনপ্রিয় কিটো ডায়েটের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। উচ্চমাত্রায় চর্বি এবং অত্যন্ত কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ডায়েট দ্রুত ওজন কমাতে সহায়তা করলেও, দীর্ঘদিন অনুসরণ করলে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আমেরিকান বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ লিভারের কোষের গঠন ও আচরণে মৌলিক পরিবর্তন ঘটায়। গবেষকদের মতে, বারবার চর্বিজনিত চাপের কারণে লিভার কোষগুলো ধীরে ধীরে কম পরিণত বা অপরিণত অবস্থায় ফিরে যায়। সাময়িকভাবে এতে কোষ বেঁচে থাকার সক্ষমতা বাড়লেও, ভবিষ্যতে নানা রোগ—বিশেষ করে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষকদের ভাষায়, এটি মূলত একটি সমঝোতার ফল। কোষ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অগ্রাধিকার দেয়, কিন্তু এতে লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোষের বেঁচে থাকার সঙ্গে যুক্ত জিনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে, আর লিভারের স্বাভাবিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এই ভারসাম্যহীনতাই সময়ের সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিখ্যাত বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সেল এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দীর্ঘ সময় ধরে ইঁদুরদের উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ানো হয়। গবেষণার শেষ পর্যায়ে প্রায় সব ইঁদুরের মধ্যেই লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা জানান, এ ধরনের পরিবর্তিত কোষে পরবর্তী সময়ে যদি ক্ষতিকর জেনেটিক মিউটেশন যুক্ত হয়, তাহলে ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

গবেষকরা মানবদেহের তথ্যও বিশ্লেষণ করেছেন। বিভিন্ন লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা গেছে—লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতার সঙ্গে যুক্ত জিনগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর কোষের টিকে থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগুলো শক্তিশালী হচ্ছে। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বেশি ছিল, তাদের ক্যানসার শনাক্তের পর বেঁচে থাকার সময়ও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ইঁদুরের ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন এক বছরের মধ্যেই দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে তা সাধারণত প্রায় ২০ বছর সময় নেয়। তবে মদ্যপান, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মতো জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয়গুলো এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত বা ধীর করতে পারে।

এখন গবেষকরা খতিয়ে দেখছেন, সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিংবা আধুনিক ওজন কমানোর চিকিৎসা—যেমন জিএলপি-১ ইনজেকশন—এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলো উল্টে দিতে পারে কি না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, লিভার রোগ এখন আর শুধু বয়স্ক বা অতিরিক্ত মদ্যপায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; ক্রমেই এটি তরুণদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে, অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর জন্য কোনো ডায়েট শুরু করার আগে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। তাৎক্ষণিক সুফল ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD