জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা বাজেট ও দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শিল্পখাতকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা সামগ্রী, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য, ইলেকট্রিক যানবাহন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাজেটের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
চিকিৎসা খাতে বড় স্বস্তি
প্রস্তাবিত বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা, হার্টের রিং বা স্টেন্ট, চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সহায়ক যন্ত্র, ক্যান্সারের ওষুধ, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টের ওপর শুল্ক ও কর হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে চিকিৎসা ব্যয় কমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারেন।
প্রযুক্তিপণ্যে মূল্য হ্রাসের সম্ভাবনা
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, কম্পিউটার মনিটর, প্রিন্টার, এসএসডি এবং বিভিন্ন কম্পিউটার এক্সেসরিজের ওপর কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাদ্য ও কৃষিখাতে সুবিধা
শিশুখাদ্য, সব ধরনের মসলা, খেজুর, সার, ভেটেরিনারি ওষুধ, কীটনাশক, বালাইনাশক এবং পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্যখাদ্যের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে এবং বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ইলেকট্রিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উৎসাহ
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ি, ২০০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক, ইলেকট্রিক বাইক, চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সোলার প্যানেল, সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এবং সোলার মাউন্টিং স্ট্রাকচারের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্যে স্বস্তি
মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম, সিসি ক্যামেরা, ইলেকট্রিক কুকার, ইনডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার এবং ওয়াটার হিটারের মতো পণ্যের ওপর কর হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের বাজারমূল্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতেও সুবিধা
গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও এর যন্ত্রাংশ, স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস এবং জুয়েলারি খাতে কর ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের এই কর-সুবিধাগুলো স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অর্থ বিলে স্বাক্ষরের পর বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।