মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

ইরানে ‘অনেক মানুষ হত্যা করতে চাই না’: ট্রাম্প

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

 

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপস্থাপক লরেন্স জোনস তাঁকে প্রশ্ন করেন, নির্বাচনের পর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অনেক মানুষকে হত্যা করতে চাই না। কিন্তু যদি তা করতে হয়, তাহলে করতে হবে। আমি আসলে তা করতে চাই না।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এবং সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

নির্বাচনের পর ইরানে হামলা হবে কি?

এর আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হতে পারে। তবে ২ নভেম্বর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর কথা তিনি ভাবছেন না।

এমনকি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এখন আলোচনায় আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তাঁর প্রশাসনের প্রধান শর্ত হচ্ছে, ইরানকে নিশ্চিত ও যাচাইযোগ্যভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তিনি এবং ট্রাম্প সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদী।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি ওয়াশিংটনের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।

ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কোন দিকে এগোয়, তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য ডেইলি বিস্ট, অ্যাক্সিওস ও আনাদোলু এজেন্সি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD