ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠনের অঙ্গীকার করেছেন দেশটির বিরোধী জোটের নেতারা। একই সঙ্গে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইসরায়েলের হার্জলিয়ায় বিরোধী দলগুলোর নেতাদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইয়াইর লাপিদ, আভিগদর লিবারম্যান এবং ইয়াইর গোলান অংশ নেন।
বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে নেতারা জানান, যত দ্রুত সম্ভব একটি নতুন জাতীয় জরুরি সরকার গঠনে তাঁরা একযোগে কাজ করবেন। এ লক্ষ্যে দলগুলোর আলোচক দল অবিলম্বে সরকারের নীতিগত কাঠামো এবং জোট সরকার গঠনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।
বিরোধী নেতারা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে তাঁরা সবাই গাদি আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যান্ডেট দেওয়ার সুপারিশ করবেন।
সরকার গঠনে ৬১ আসনের সমীকরণ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে বিরোধী জোট এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়া গেলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন নিশ্চিত হতে পারে। এ কারণে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট নিয়ে মতবিরোধ
নতুন সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। ইয়াইর গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।
অন্যদিকে নাফতালি বেনেট দ্রুত সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। দ্রুত পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘৭ অক্টোবরের সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে সেটির পরিবর্তে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।
প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
বুধবার থেকে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বাসভবনে পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
সব বিরোধী দলের সমর্থন পেলেও আইজেনকটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন মতাদর্শের দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে বিরোধী নেতারা নতুন নির্বাচন এড়াতে দ্রুত একটি সরকার গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত আইজেনকট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এবং জোট আলোচনার ফলাফলের ওপর।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স, দ্য জেরুজালেম পোস্ট ও টাইমস অব ইসরায়েল।