ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কুল ভবনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে নয়টি শক্তিশালী বোমা। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া (Zaporizhzhia) অঞ্চলের কোমিশুভাখা (Komyshuvakha) গ্রামে সোমবার, ২ নভেম্বর এই হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার বিমান থেকে স্কুল ভবন লক্ষ্য করে প্রায় নয়টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় স্কুলটির ভবন ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্কুলটিতে তখন কোনো ক্লাস চলছিল না। যুদ্ধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় এবং মানবিক সহায়তা বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
হামলার সময় সেখানে সাধারণ মানুষ মানবিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য জড়ো হয়েছিলেন।
হতাহতের সংখ্যা
– নিহত: অন্তত ৩৩ জন (ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী)।
– আহত: অন্তত ১০ জন বলে UPI জানিয়েছে।
– নিখোঁজ: প্রায় ৫০ জন।
– ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
তবে Associated Press মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৩১ এবং আহতের সংখ্যা অন্তত ৫ উল্লেখ করেছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
UPI+2
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মানবিক সহায়তা বিতরণের নির্ধারিত দিনেই রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। তাঁর মতে, এটি ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষের ওপর ভয়াবহ আঘাত।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় ইউক্রেনের সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার দাবি, এতে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ ২৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।
সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে?
এ হামলার মধ্যেই আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। শীত মৌসুমের আগে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার শিকার হচ্ছে।